ফুটপাথে ব্যবসা করতে দেয়ার দাবিতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা গুলিস্তানে সড়ক অবরোধ করে গতকাল দিনভর বিক্ষোভ করেছেন ভাসমান হকারেরা। তাদের বিক্ষোভের ফলে গুলিস্তান, পল্টনসহ ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোজার প্রথম দিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

রাজধানীতে মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলার কারণে ফুটপাথে হকার বসা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। তবে রমজান মাসে তারা যাতে ক্ষিতগ্রস্ত না হন সেজন্য ১১টি হলিডে মার্কেট চালু করেছে ডিএমপি। এ ছাড়া অফিস ছুটি শেষে হকারদের ফুটপাথে ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু তাতে সন্তষ্ট নন হকাররা। তারা ফুটপাথে সারাদিন ব্যবসা করতে দেয়ার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

এ দাবিতে গতকাল তাদের ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের সাথে সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। কিন্তু নগর ভবনে গিয়ে মেয়রের সাক্ষাৎ না পেয়ে হকাররা দুপুরের আগে নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা গোলাপ শাহ মাজারের সামনে নর্থ সাউথ রোড বন্ধ করে দেন।

বেলা ১টার দিকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনের সড়কও তারা অবরোধ করেন। এতে পল্টন থেকে ফুলবাড়িয়া হয়ে সদরঘাট, গুলিস্তান থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জিরো পয়েন্ট থেকে সচিবালয়মুখী আব্দুল গণি রোডের মুখে ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশনের বড় বড় পাইপ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেখা যায়।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (পেট্রোল) আবুল বাশার বলেন, গুলিস্তানে গোলাপ শাহ মাজারের চারিদিক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন হকাররা। গোলাপ শাহ মাজারের কোনো পাশ দিয়েই কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। আমরা হকারদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

মিজানুর রহমান নামে একজন হকার বলেন, গত চার মাস ধরে আমরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের ফুটপাতে ব্যবসা করতে পারছি না। আমরা বেকার হয়ে গেছি। মেয়র বলেছিলেন বসতে দেবেন কি না সেই ডিসিশন আজকে দিবেন। কিন্তু মেয়রের (সাঈদ খোকন) অফিসে গিয়ে আমরা তাকে পাইনি। পরে আমরা রাস্তায় নেমেছি।

আব্দুল হালিম নামে আরেকজন হকার বলেন, আমরা ফুটপাথে বসতে চাই, এখানেই ব্যবসা করতে চাই। ফুটপাথ থেকে তারাই মালামাল কেনেন যারা ফুটপাথ দিয়ে চলাচল করেন। যারা বলছেন, আমরা ফুটপাথে বসলে চলাচল করা যায় না, তারা মিথ্যা বলেন। তারা উঁচু তলার মানুষ। ফুটপাথ থেকে আমাদের উঠিয়ে দিলে তারা গাড়ি রাখতে পারবেন।

হকারদের আন্দোলন বিকেল পর্যন্ত চলায় বেলা সাড়ে ৩টায় অফিস ছুটি হলে ঘরমুখো মানুষ পড়েন চরম বিড়ম্বনায়। উপায়ান্তর না দেখে হেঁটেই রওনা হতে হয় তাদের।

এ দিকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটের বাস গুলিস্তান হয়ে যায় বলে অবরোধের কারণে বহু যানবাহন গুলিস্তানের আশপাশের সড়কে আটকা পড়ে।

কলাবাগান থেকে ভুলতাগামী মেঘলা পরিবহনের চালক মো: আসলাম বিকেল সাড়ে ৩টায় বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে বঙ্গভবনের সামনে বসে আছি। গাড়ি এক চুলও নড়েনি।

শুধু পল্টন, গুলিস্তান নয়, পুরো রাজধানীতে এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে। যানজটের কারণে অনেক রোজাদারকে সড়কেই ইফতারি করতে হয়।

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাসিম বলেন, মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়রের কার্যালয়ে গিয়ে তার দেখা মেলেনি। গত ৫ মে আমরা মেয়রের সাথে দেখা করে বলেছিলাম, পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত আমাদের ফুটপাথে বসার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি আজকে (গতকাল) আমাদের তার অফিসে যেতে বলেছিলেন। ১১টায় সময় গিয়েছিলাম, এখন ৪টা বাজে। তার দেখা পাইনি। এ জন্য হকারেরা রাস্তায় নেমে গেছে।

এ দিকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত লাইনম্যান নামের চাঁদাবাজদের অবৈধ আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা হকারদের রাস্তায় নামিয়েছে।

ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন সোমবার নগর ভবনে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক সভায় জানান, হকারদের জন্য হলিডে মার্কেট চালু করা হয়েছে। অফিস ছুটির পরও তারা বসতে পারবে। এর বাইরে আর তাদের রাস্তা ফুটপাথে বসতে দেয়ার সুযোগ নেই। রমজানে যানজট কমাতে এ ব্যাপারে পুলিশও একই অবস্থানে রয়েছে।